Categories
সমগ্র বাংলাদেশ

স্বাধীনতার সুবাতাস লেখক মোঃ মজিবুর রহমান

ত্রিশ লক্ষ বীর শহীদের রক্ত, তিন লক্ষ মা-বোনের ইজ্জত আর অবর্ণনীয় ত্যাগ-তিতিক্ষার বিনিময়ে আমরা পেয়েছি প্রিয় স্বাধীনতা। দেশমাতৃকার জন্য মা হারিয়েছে তার সন্তানকে, স্ত্রী হারিয়েছে তার স্বামীকে, ভাই হারিয়েছে তার বোনকে। একান্ত আপনজনকে হারিয়ে আমরা পেয়েছি বহুপ্রতীক্ষিত বড় কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা। পেয়েছি একটা মানচিত্র। পেয়েছি লাল সবুজের পতাকা। পেয়েছি মাথা উঁচু করে বাঁচার অধিকার।

স্বাধীনতা প্রাপ্তির পঞ্চাশ বছরে দাঁড়িয়ে আমাদের ভেবে দেখার প্রয়োজন আছে, আমাদের ত্যাগ -বিসর্জন গুলো সার্থক হলো কিনা? যাঁরা জীবন উৎসর্গ করেছেন তাঁদের উদ্দেশ্য -লক্ষ্য গুলো আমরা ছুঁতে পেরেছি কিনা? যাঁরা যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা তাঁরা দল-মত নির্বিশেষে কতটা ভালো আছেন?

যে সমস্ত মুক্তিযোদ্ধা এখনো বেঁচে আছেন তাঁদের আমরা কতটা সম্মানিত করতে পেরেছি? যাঁদের ত্যাগের ফসল আমরা ভোগ করছি তাঁদের প্রতি আমরা যা করছি ,রাষ্ট্র যা করছে তা কি পর্যাপ্ত?

দেশ আজ সমৃদ্ধির পথে অগ্রসরমান। দেশের সাধারণ মানুষ স্বাধীনতার সুফল পাচ্ছে।

রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় অসহায় মানুষের জন্য কিছু কিছু আশ্রয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। গৃহহীনে গৃহ পাচ্ছে। এটা আমাদের জন্য সুখকর। আমাদের স্বনির্ভরতার স্বাক্ষর মিলেছে পদ্মা সেতু নির্মাণের মাধ্যমে। নিঃসন্দেহে এটি স্বাধীনতার সুফল। পরাধীন জাতি কখনো অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারেনা। আমরা আজ স্বাবলম্বী এটা আমাদের স্বাধীনতারই  ফল।

 তথ্য প্রযুক্তির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বেশ এগিয়েছে। এটি সরকারের সাফল্যের মধ্যে পড়ে। কিন্তু তথ্য প্রযুক্তি  ব্যবহার করে আমাদের সম্পদ যাতে কেউ পাচার করতে না পারে তা তদারক করাও সরকারের দায়িত্ব। স্বাধীনতা অর্জনের পর হতে ধীরে ধীরে যোগাযোগ ব্যবস্থা গতিশীল হয়েছে। রাস্তাঘাটের সংস্কার ও উন্নয়ন হয়েছে। এ সবই স্বাধীনতার সুফল।

কিন্তু উদ্বেগের বিষয় হলো কৃষি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক পরিবর্তন আসেনি।

একটি স্বাধীন দেশে স্বাধীনতার সুফল , সুবাতাস সাধারণ মানুষের দোর-গোড়ায় পৌঁছে দিতে হলে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং ধন বৈষম্য রোধ করা একান্ত জরুরী। কারণ, বৈষম্য হতে জন্ম নেয় বিদ্রোহ -বিপ্লব। বাংলাদেশের জন্ম ইতিহাস পর্যালোচনা করলে সে কথাই মনে করিয়ে দেয়।

আমরা অনেক হারিয়ে স্বদেশভূমিকে নিজের করে পেয়েছি। আমরা বৈষম্য চাই না। চাই দুর্নীতিমুক্ত শোষণহীন বাংলাদেশ। যাঁরা নিজেদের প্রাণ বিসর্জন দিয়ে এ দেশটি আমাদের হাতে আমানত আকারে তুলে দিয়ে গেছেন তাঁদের অপমান যেন আমরা না করি।

বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ক্রয় ক্ষমতা বাড়ছে। মানুষ সুখে আছে। এ অবস্থায় দুর্নীতিমুক্ত সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হলে সুখের সাথে স্বস্তি মিলে দেশের মানুষ শান্তিতে বসবাস করতে পারবে। দেশের সাধারণ মানুষ পাবে স্বাধীনতার সুবাতাস। সম্ভাবনাময় বাংলাদেশ হয়ে উঠবে স্বনির্ভর। 

 লেখক- মজিবুর রহমান

সহকারী প্রধান শিক্ষক

চট্টগ্রাম প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল এন্ড কলেজ।